মালদা

বিদায় ‘রোল কল’ এবার গুগল নেবে মালদা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে ছাত্রছাত্রীর হাজিরা

শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে ছাত্র-ছাত্রী, সবার উপস্থিতি অনলাইনে রেকর্ড করার ব্যবস্থা করে রাজ্যে নজির তৈরি করল মালদা কলেজ কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুলাই শুক্রবার থেকেই চালু হচ্ছে এই ব্যবস্থা। কলেজ তহবিল থেকে অতিরিক্ত একটি টাকাও খরচ না করে অনলাইন হাজিরা রেকর্ডের এই পদ্ধতি রাজ্যে প্রথম বলে দাবী অধ্যক্ষ উত্তম সরকারের। প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি করেছেন কলেজেরই একজন শিক্ষক মানস বৈদ্য। আপাততঃ মালদা কলেজে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীরাই এই অনলাইন উপস্থিতির আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন উত্তমবাবু।

কিভাবে হবে এই অনলাইন উপস্থিতি নথিভুক্তির কাজ তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মালদা কলেজের ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেণ্ট সেলের চেয়ারম্যান মানস বৈদ্য বলেন, এই পদ্ধতিটি গুগল সার্ভিসকে পরিমার্জন করে তৈরি করেছেন তিনি ৷

নিজের নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই শিক্ষকরা ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীদের উপ্সথিতি নথি ভুক্ত করতে পারবেন। পরে সেই উপ্সথিতি তারা পাথিয়ে দেবেন কলেজের প্রধান কম্পিউটারে। সেখান থেকে কলেজের ওয়েব সাইডে তুলে দেওয়া হবে সেই তথ্য। এখন মালদা কলেজে ১০৮ টি হাজিরা খাতা রয়েছে। এই অনলাইন উপ্সথিতি চালু হলে স্বাভাবিক ভাবেই কমে যাবে এই খাতার সংখ্যা। প্রতিটি ক্লাসে কোন কোন ছাত্র ছাত্রী হাজির ছিলেন, শিক্ষক শিক্ষিকারাই বা মাসে কয়টি করে ক্লাস নিয়েছেন সব তথ্যই থাকবে কলেজের কাছে। ছাত্র ছাত্রীদের হাজিরা কলেজের ওয়েব সাইডের মাধ্যমে দেখতে পাবেন তাদের অভিভাবকেরাও।

কলেজের শিক্ষকরা প্রত্যেকেই এই পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷ এই অ্যাটেনডেন্স রেজিস্টারের জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দেওয়া রয়েছে ৷ সেই পাসওয়ার্ডে তিনি অবশ্য শুধুমাত্র নিজের ক্লাসের উপস্থিতিই আপলোড করতে পারবেন ৷ প্রথমদিকে কারোর কারোর অসুবিধে হতে পারে ভেবে তাঁরা শুরুর দিকে দু’ধরণের অ্যাটেন্ডেন্সই বজায় রাখছেন ৷ ভবিষ্যতে খাতায় উপস্থিতি তুলে দেওয়া হবে ৷

অধ্যক্ষ উত্তম সরকার বলেন, কলেজে’র খরচ বলতে শুধু ওয়াই-ফাই ব্যবহারের খরচ। তাও এমন কিছু নয়। আপাততঃ প্রথম বর্ষের অনার্সের ১৩০০ জন এবং পাসকোর্সের ১৫০০ জন ছাত্রছাত্রী, আমি নিজে সহ ৫৪ জন স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজ্য সরকার অনুমোদিত ১৭ জন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ১৬ জন স্থায়ী এবং ২৭ জন অস্থায়ী অশিক্ষক কর্মচারী এই অনলাইন উপস্থিতি নথিভুক্তির আওতায় আসছেন বলে জানান উত্তমবাবু।